Article
PixelLab ইনস্টল করার পর প্রথমে কী করবেন
PixelLab ইনস্টল করার পর বেশিরভাগ নতুন ব্যবহারকারী সরাসরি ডিজাইন তৈরি শুরু করেন। এটি একটি সাধারণ ভুল। একজন দক্ষ ডিজাইনার সবসময় কাজ শুরু করার আগে সফটওয়্যারটি নিজের কাজের উপযোগী করে প্রস্তুত করেন। এতে পরবর্তীতে কাজের গতি বাড়ে, ভুল কম হয় এবং ডিজাইনের মানও উন্নত হয়।
প্রথমবার PixelLab চালু করলে একটি ডিফল্ট ক্যানভাস এবং একটি নমুনা লেখা দেখা যায়। নতুন ডিজাইন শুরু করার আগে এই ডিফল্ট লেখাটি মুছে ফেলুন। এতে সম্পূর্ণ খালি ক্যানভাস পাওয়া যাবে এবং নতুন ডিজাইন তৈরি করতে সুবিধা হবে।
এরপর ক্যানভাসের সাইজ নির্ধারণ করুন। কোন প্ল্যাটফর্মের জন্য ডিজাইন করছেন তার ওপর ক্যানভাসের মাপ নির্ভর করবে। যেমন—
Facebook Post — 1080 × 1080 px
Facebook Cover — 1640 × 624 px
Instagram Post — 1080 × 1080 px
Instagram Story — 1080 × 1920 px
YouTube Thumbnail — 1280 × 720 px
Poster — 2000 × 2500 px বা তার বেশি
শুরু থেকেই সঠিক ক্যানভাস ব্যবহার করলে পরে ডিজাইনের মান নষ্ট হয় না।
এরপর Background নির্বাচন করুন। যদি সাধারণ পোস্টার তৈরি করেন তাহলে Solid Color ব্যবহার করতে পারেন। প্রিমিয়াম ডিজাইনের জন্য Gradient অথবা Custom Background ব্যবহার করা ভালো। ব্যাকগ্রাউন্ড নির্বাচন করার সময় সবসময় খেয়াল রাখবেন যেন মূল লেখা এবং ছবিগুলো পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
এরপর Settings-এ গিয়ে Export Quality সর্বোচ্চ মানে সেট করুন। এতে ডিজাইন সংরক্ষণ করার সময় ছবির মান ভালো থাকবে। পাশাপাশি Auto Save সুবিধা থাকলে সেটিও চালু রাখতে পারেন, যাতে হঠাৎ অ্যাপ বন্ধ হয়ে গেলেও কাজ নষ্ট না হয়।
এরপর নিজের ব্যবহারের জন্য একটি Fonts ফোল্ডার এবং একটি PNG Resources ফোল্ডার তৈরি করুন। প্রফেশনাল ডিজাইনাররা কখনো প্রতিবার নতুন করে রিসোর্স খোঁজেন না। তারা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় বাংলা ও ইংরেজি ফন্ট, লোগো, আইকন, লাইট ইফেক্ট, ব্রাশ, রিবন, ফ্রেম এবং অন্যান্য PNG ফাইল আলাদা করে সংরক্ষণ করে রাখেন। এতে কাজের সময় অনেক সাশ্রয় হয়।
সবশেষে একটি বিষয় মনে রাখবেন—PixelLab শেখার শুরুতে জটিল পোস্টার বানানোর চেষ্টা করবেন না। প্রথমে ক্যানভাস, টেক্সট, ছবি, Shape এবং PNG ব্যবহারের মৌলিক নিয়ম আয়ত্ত করুন। ভিত্তি শক্ত হলে পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের প্রিমিয়াম ডিজাইন তৈরি করা অনেক সহজ হবে।
PixelLab-এর ইন্টারফেস সম্পূর্ণভাবে চিনে নিন
PixelLab দক্ষভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রথমেই এর প্রতিটি টুল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। অনেক নতুন ব্যবহারকারী শুধুমাত্র টেক্সট যোগ করা বা ছবি বসানোর কাজ জানেন, কিন্তু অ্যাপের বাকি গুরুত্বপূর্ণ অপশনগুলো সম্পর্কে জানেন না। ফলে তারা একই কাজ করতে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় করেন এবং অনেক ভালো ফিচার ব্যবহার করার সুযোগ হারিয়ে ফেলেন।
অ্যাপটি খুললে সর্বপ্রথম যে অংশটি দেখা যায় সেটি হলো Canvas। এটি হচ্ছে আপনার কাজের মূল ক্ষেত্র। ডিজাইনের সমস্ত লেখা, ছবি, Shape এবং অন্যান্য উপাদান এই ক্যানভাসের উপরেই স্থাপন করা হয়। ক্যানভাসের আকার, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং রেজুলেশন প্রজেক্ট অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়।
ক্যানভাসের উপরের অংশে থাকে Top Toolbar। এখান থেকে নতুন প্রজেক্ট তৈরি, প্রজেক্ট সংরক্ষণ, ছবি ইমপোর্ট, Export, Undo, Redo এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপশন ব্যবহার করা যায়। কাজ করার সময় ভুল হলে Undo এবং Redo অপশন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
ডান পাশে বা নিচের অংশে থাকে Object Panel। যখন কোনো লেখা, ছবি বা Shape নির্বাচন করবেন, তখন সেই অবজেক্টের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সেটিংস এখানে প্রদর্শিত হবে। প্রতিটি অবজেক্টের আলাদা Properties থাকে এবং সেগুলো এখান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
PixelLab-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো Text Tools। এখান থেকে আপনি—
এরপর রয়েছে Image Tool। এটি ব্যবহার করে ফোনের গ্যালারি থেকে ছবি যুক্ত করা যায়। PNG, Logo, Sticker, Icon কিংবা নিজের তোলা ছবি—সবকিছু এখান থেকেই ডিজাইনে যুক্ত করা হয়।
Shape Tool ব্যবহার করে Rectangle, Circle, Triangle, Line, Arrow, Star এবং অন্যান্য জ্যামিতিক আকৃতি তৈরি করা যায়। প্রফেশনাল পোস্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড, বক্স, ব্যানার, রিবন এবং ডিজাইন এলিমেন্ট তৈরিতে Shape-এর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর রয়েছে Color Option। এখানে শুধু একটি রঙ নির্বাচন করাই নয়, বরং Gradient, Transparency এবং বিভিন্ন ধরনের Color Blend ব্যবহার করা যায়। ভালো ডিজাইনের অন্যতম শর্ত হলো সঠিক Color Combination নির্বাচন করা।
PixelLab-এ Layer System অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি লেখা, ছবি অথবা Shape একটি আলাদা Layer হিসেবে কাজ করে। কোন অবজেক্ট সামনে থাকবে এবং কোনটি পিছনে থাকবে, তা Layer-এর মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়। Layer সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলে জটিল ডিজাইন তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়াও রয়েছে Position Tool। এর মাধ্যমে কোনো অবজেক্টকে একদম সেন্টারে, বাম পাশে, ডান পাশে অথবা উপরে-নিচে নিখুঁতভাবে স্থাপন করা যায়। চোখের আন্দাজের পরিবর্তে এই টুল ব্যবহার করলে ডিজাইন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ দেখায়।
PixelLab-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো Transform Tool। এটি ব্যবহার করে কোনো অবজেক্ট Rotate, Flip, Resize, Stretch অথবা Perspective অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। টাইপোগ্রাফি এবং পোস্টার ডিজাইনে এই টুলের ব্যবহার অত্যন্ত বেশি।
একজন প্রফেশনাল ডিজাইনার কখনো কোনো টুল ব্যবহার না জেনে ডিজাইন শুরু করেন না। তাই এই অধ্যায়ে উল্লেখিত প্রতিটি টুল আলাদাভাবে কয়েকবার ব্যবহার করে দেখুন। প্রতিটি অপশনের কাজ বুঝে গেলে পরবর্তী অধ্যায়গুলো অনুসরণ করা অনেক সহজ হবে।
এই অধ্যায় শেষ করার আগে অন্তত একটি খালি ক্যানভাসে একটি লেখা, একটি Shape এবং একটি PNG যুক্ত করে তাদের Move, Resize, Rotate, Color Change এবং Layer পরিবর্তনের অনুশীলন করুন। PixelLab শেখার জন্য এটিই হবে আপনার প্রথম বাস্তব অনুশীলন।
একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনারের প্রথম কাজ হলো সঠিক ক্যানভাস নির্বাচন করা। অনেকেই ডিজাইন তৈরির পর বুঝতে পারেন যে ছবিটি ফেসবুকে কেটে যাচ্ছে, ইউটিউব থাম্বনেইলে ঝাপসা দেখাচ্ছে অথবা প্রিন্ট করার সময় কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যার মূল কারণ হলো শুরুতেই ভুল ক্যানভাস ব্যবহার করা।
তাই প্রতিটি নতুন ডিজাইন তৈরির আগে ক্যানভাসের সাইজ, রেজুলেশন এবং উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
PixelLab-এ নতুন প্রজেক্ট শুরু করতে উপরের New অথবা Image Size অপশনে প্রবেশ করুন। এখান থেকে Width (প্রস্থ) এবং Height (উচ্চতা) নির্ধারণ করতে পারবেন। সবসময় Pixel (px) ইউনিট ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো, কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার অধিকাংশ ডিজাইন পিক্সেল ইউনিটেই তৈরি করা হয়।
নিচে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ক্যানভাস সাইজ দেওয়া হলো—
যদি বড় প্রিন্টের জন্য ডিজাইন করেন, তাহলে সম্ভব হলে আরও বড় রেজুলেশন ব্যবহার করুন। এতে ডিজাইন বড় আকারে প্রিন্ট করলেও কোয়ালিটি ঠিক থাকবে।
ক্যানভাস তৈরি করার পর ব্যাকগ্রাউন্ড নির্বাচন করতে হবে। কাজের ধরন অনুযায়ী ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করুন।
Solid Color: সাধারণ পোস্ট, ব্যানার বা টাইপোগ্রাফি ডিজাইনের জন্য।
Gradient: আধুনিক এবং প্রিমিয়াম লুক দেওয়ার জন্য।
Transparent: শুধুমাত্র PNG, Logo বা Sticker তৈরির জন্য।
Custom Image: পোস্টার, ব্যানার এবং ফটো ম্যানিপুলেশনের জন্য।
যদি পরে PNG এক্সপোর্ট করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে শুরু থেকেই Transparent Background ব্যবহার করলে কাজ সহজ হবে।
অনেক নতুন ডিজাইনার লেখাকে ক্যানভাসের একেবারে প্রান্তে বসিয়ে দেন। এটি একটি বড় ভুল।
সবসময় চারপাশে কিছু খালি জায়গা (Margin) রাখুন। এতে বিভিন্ন ডিভাইসে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিজাইন কাটার সম্ভাবনা কমে যায় এবং ডিজাইন দেখতে আরও প্রফেশনাল লাগে।
ছোট ক্যানভাসে ডিজাইন করে পরে সেটিকে বড় করলে ছবির মান নষ্ট হয়ে যায়।
যেমন—
PixelLab-এর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বহুল ব্যবহৃত ফিচার হলো Text Tool। আপনি পোস্টার, ব্যানার, লোগো, ফেসবুক পোস্ট, ইউটিউব থাম্বনেইল, বিজনেস কার্ড কিংবা যেকোনো ধরনের গ্রাফিক ডিজাইন তৈরি করুন না কেন, প্রায় প্রতিটি ডিজাইনেই টেক্সট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
একজন সাধারণ ব্যবহারকারী শুধু লেখা টাইপ করেন। কিন্তু একজন প্রফেশনাল ডিজাইনার টেক্সটকে এমনভাবে ডিজাইন করেন, যাতে সেটিই পুরো ডিজাইনের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
তাই এই অধ্যায়ে আমরা Text Tool-এর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অপশন ধাপে ধাপে শিখব।
PixelLab খুলে "+" আইকনে চাপুন এবং Text নির্বাচন করুন। একটি নতুন টেক্সট বক্স তৈরি হবে।
ডিফল্ট লেখা মুছে নিজের প্রয়োজনীয় লেখা লিখুন। বাংলা লিখতে চাইলে আপনার ফোনে বাংলা কিবোর্ড (যেমন Ridmik বা Avro Keyboard) ব্যবহার করতে পারেন।
প্রথম থেকেই অভ্যাস করুন প্রতিটি টেক্সট আলাদা Layer হিসেবে যোগ করার। কখনো এক লাইনে অনেক তথ্য লিখবেন না। শিরোনাম, সাব-টাইটেল এবং বর্ণনা আলাদা আলাদা টেক্সট লেয়ারে রাখুন। এতে পরে সম্পাদনা করা অনেক সহজ হয়।
একটি ভালো ফন্ট পুরো ডিজাইনের মান পরিবর্তন করে দিতে পারে।
PixelLab-এ ডিফল্ট কিছু ফন্ট থাকলেও প্রফেশনাল কাজের জন্য কাস্টম ফন্ট ব্যবহার করাই উত্তম।
Font পরিবর্তন করতে—
বাংলা ডিজাইনের জন্য সবসময় পরিষ্কার ও সহজে পড়া যায় এমন ফন্ট ব্যবহার করুন। শিরোনামে মোটা (Bold) ফন্ট এবং বর্ণনায় সাধারণ (Regular) ফন্ট ব্যবহার করলে ডিজাইন আরও আকর্ষণীয় হয়।
ফন্টের আকার নির্ধারণ করার সময় শুধুমাত্র বড় বা ছোট করলেই হবে না।
একটি ডিজাইনে সাধারণত তিন ধরনের টেক্সট থাকে—
এই অনুপাত বজায় রাখলে ডিজাইনে একটি সুন্দর ভিজ্যুয়াল হায়ারার্কি তৈরি হয় এবং দর্শক সহজেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বুঝতে পারেন।
রঙ নির্বাচন করার সময় শুধু সুন্দর রঙ দেখলেই হবে না।
সবসময় ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে পর্যাপ্ত কনট্রাস্ট রাখতে হবে।
যেমন—
একটি ডিজাইনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক রঙ ব্যবহার করবেন না। সাধারণত দুই থেকে চারটি রঙের মধ্যে পুরো ডিজাইন সীমাবদ্ধ রাখাই সবচেয়ে ভালো।
Letter Spacing-এর মাধ্যমে অক্ষরের মধ্যবর্তী দূরত্ব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অতিরিক্ত কম বা বেশি Spacing ব্যবহার করলে লেখা পড়তে অসুবিধা হয়।
শিরোনামে সামান্য বেশি Letter Spacing ব্যবহার করলে অনেক সময় ডিজাইন আরও প্রিমিয়াম দেখায়।
যদি একাধিক লাইনের লেখা থাকে, তাহলে Line Spacing অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুটি লাইনের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকলে লেখা গাদাগাদি দেখায়।
আবার অতিরিক্ত দূরত্ব রাখলেও ডিজাইনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
সবসময় এমন দূরত্ব রাখুন যাতে লেখা পরিষ্কারভাবে পড়া যায়।
PixelLab-এ সাধারণত তিন ধরনের Alignment ব্যবহার করা হয়—
পোস্টারের মূল শিরোনাম সাধারণত Center Align রাখা হয়।
আর তথ্যভিত্তিক লেখা বা তালিকা Left Align রাখলে পড়তে সুবিধা হয়।
একটি ডিজাইনে অযথা বারবার Alignment পরিবর্তন করবেন না।
Rotate অপশন ব্যবহার করে লেখাকে বিভিন্ন কোণে ঘোরানো যায়।
তবে নতুন ডিজাইনারদের জন্য পরামর্শ হলো—
শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে Rotation ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত কাত করা লেখা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপেশাদার মনে হয়।
Opacity ব্যবহার করে লেখাকে হালকা বা স্বচ্ছ করা যায়।
এই অপশনটি সাধারণত—
তৈরি করার ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়।
মূল শিরোনামে Opacity কমানো উচিত নয়।
একই ধরনের একাধিক লেখা ব্যবহার করতে হলে নতুন করে টাইপ না করে Duplicate ব্যবহার করুন।
এতে সময় বাঁচে এবং একই স্টাইল বজায় থাকে।
ডিজাইন করার সময় অনেক সময় ভুলবশত লেখা নড়ে যায়।
এই সমস্যা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ টেক্সট Layer Lock করে রাখুন।
কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি নিরাপদ থাকবে।
যদি একটি ডিজাইনে ২০–৩০টি Layer থাকে, তাহলে সেগুলো খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তাই Layer-এর নাম পরিবর্তন করার অভ্যাস করুন।
যেমন—
এতে বড় ডিজাইন পরিচালনা করা অনেক সহজ হয়।
একটি ভালো পোস্টারে সাধারণত—
শুধু একটি লেখা টাইপ করলেই সেটি ভালো ডিজাইন হয়ে যায় না। একজন প্রফেশনাল গ্রাফিক ডিজাইনার টেক্সটকে এমনভাবে স্টাইল করেন, যাতে সেটি দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায় এবং পুরো ডিজাইনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
PixelLab-এর সবচেয়ে জনপ্রিয় ফিচারগুলোর একটি হলো Text Styling। এই অধ্যায়ে আমরা টেক্সটকে প্রফেশনালভাবে ডিজাইন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি অপশন ধাপে ধাপে শিখব।
Stroke হলো লেখার চারপাশে একটি বর্ডার বা আউটলাইন যোগ করার ফিচার।
এটি মূলত লেখাকে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আলাদা করে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহৃত হয়।
Shadow ব্যবহার করলে লেখার নিচে একটি ছায়া তৈরি হয়, যা লেখাকে আরও বাস্তবসম্মত এবং আলাদা করে তোলে।
Shadow-এর উদ্দেশ্য হলো লেখা স্পষ্ট করা, অতিরিক্ত চোখে লাগা নয়।
Inner Shadow লেখার ভেতরের অংশে ছায়া তৈরি করে।
এটি সাধারণত—
তৈরি করার সময় ব্যবহার করা হয়।
নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি কম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
Glow ব্যবহার করলে লেখার চারপাশে আলোর মতো একটি প্রভাব তৈরি হয়।
বিশেষ করে—
এ Glow খুব সুন্দর দেখায়।
Emboss Effect লেখাকে সামান্য উঁচু বা নিচু দেখানোর অনুভূতি তৈরি করে।
এটি সাধারণত—
ডিজাইনে ব্যবহার করা হয়।
অতিরিক্ত Emboss ব্যবহার করলে ডিজাইন পুরোনো ধাঁচের মনে হতে পারে।
PixelLab-এ টেক্সটের পেছনেও Background যোগ করা যায়।
এটি ব্যবহার করা হয়—
Highlight করার জন্য।
Background-এর Padding সবসময় সমান রাখুন।
Padding নির্ধারণ করে লেখা এবং Background-এর মাঝের দূরত্ব।
Padding খুব কম হলে লেখা চেপে যায়।
Padding খুব বেশি হলে Background অস্বাভাবিক বড় দেখায়।
সামঞ্জস্যপূর্ণ Padding ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
Gradient Text বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় Typography Style-গুলোর একটি।
একটি রঙের পরিবর্তে দুই বা ততোধিক রঙ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে লেখাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
Gradient Text বিশেষভাবে ভালো লাগে—
Texture ব্যবহার করে লেখার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের Pattern বা Image যোগ করা যায়।
যেমন—
Texture ব্যবহারের সময় অবশ্যই High Resolution Texture ব্যবহার করবেন।
Low Quality Texture পুরো ডিজাইন নষ্ট করে দিতে পারে।
Transparency ব্যবহার করে লেখাকে আংশিক স্বচ্ছ করা যায়।
এটি সাধারণত—
তৈরিতে বেশি ব্যবহৃত হয়।
মূল শিরোনামে Transparency ব্যবহার না করাই ভালো।
কিছু সংস্করণে Blend Mode ব্যবহার করা যায়।
এর মাধ্যমে লেখা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড একসাথে মিশে বিভিন্ন ধরনের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট তৈরি করে।
যেমন—
এই ফিচার ব্যবহার করার আগে প্রতিটি Mode আলাদাভাবে পরীক্ষা করে দেখুন।
একটি লেখায় একসাথে সব Effect ব্যবহার করবেন না।
একজন প্রফেশনাল ডিজাইনার সাধারণত—
অথবা
অথবা
এই ধরনের সীমিত কম্বিনেশন ব্যবহার করেন।
অতিরিক্ত Effect ব্যবহার করলে ডিজাইন অগোছালো এবং অপেশাদার দেখায়।
একটি ডিজাইনের সৌন্দর্য শুধু টেক্সটের উপর নির্ভর করে না। একটি প্রফেশনাল পোস্টারে ব্যবহৃত ছবি, PNG, লোগো, আইকন এবং ব্যাকগ্রাউন্ডই ডিজাইনকে আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই PixelLab-এ Image Tool-এর সঠিক ব্যবহার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক নতুন ব্যবহারকারী শুধু গ্যালারি থেকে একটি ছবি এনে ডিজাইনে বসিয়ে দেন। কিন্তু একজন প্রফেশনাল ডিজাইনার জানেন কীভাবে ছবি নির্বাচন, ক্রপ, রিসাইজ, লেয়ারিং এবং PNG ব্যবহার করলে ডিজাইন আরও বাস্তবসম্মত ও প্রিমিয়াম দেখায়।
Image Tool-এর মাধ্যমে আপনি আপনার ফোনের গ্যালারি থেকে যেকোনো ছবি PixelLab-এ যুক্ত করতে পারবেন।
এটি ব্যবহার করে আপনি—
ইত্যাদি সহজেই ডিজাইনে ব্যবহার করতে পারবেন।
PixelLab-এ "+" আইকনে চাপুন এবং From Gallery নির্বাচন করুন।
এরপর আপনার প্রয়োজনীয় ছবিটি নির্বাচন করুন।
ছবি যুক্ত করার পর প্রথমেই নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করুন—
Low Quality ছবি ব্যবহার করলে পুরো ডিজাইনই নিম্নমানের দেখাবে।
প্রফেশনাল ডিজাইনে সবসময় HD অথবা 4K মানের ছবি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
যদি ছবিটি Zoom করলে ঝাপসা হয়ে যায়, তাহলে সেটি পোস্টারে ব্যবহার না করাই ভালো।
সাধারণ নিয়ম—
ছবি যুক্ত করার পর সেটিকে সঠিক আকারে আনতে হবে।
Resize করার সময়—
সবসময় Corner ধরে Resize করুন।
ছবির অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে ফেলার জন্য Crop ব্যবহার করুন।
যেমন—
Crop করার সময় মূল বিষয় যেন কেটে না যায়।
Rotate ব্যবহার করে ছবিকে বিভিন্ন কোণে ঘোরানো যায়।
তবে Portrait Photo-এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত Rotation ব্যবহার না করাই ভালো।
Flip-এর মাধ্যমে ছবি Horizontal অথবা Vertical উল্টানো যায়।
এটি বিশেষভাবে কাজে লাগে—
PNG হলো এমন একটি Image Format যার Background থাকে না।
PNG ব্যবহার করলে শুধুমাত্র মূল অবজেক্ট দেখা যায়।
যেমন—
PNG ছাড়া আধুনিক পোস্টার ডিজাইন কল্পনা করা যায় না।
PNG যুক্ত করার আগে নিশ্চিত করুন—
খারাপভাবে কাটা PNG ব্যবহার করলে ডিজাইন অপেশাদার দেখায়।
যদি মানুষের ছবি ব্যবহার করেন—
প্রয়োজনে PixelLab-এর বাইরে ছবি আগে Edit করে নিন।
ব্যাকগ্রাউন্ড নির্বাচন করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
ব্যাকগ্রাউন্ড কখনো মূল বিষয়কে ঢেকে ফেলবে না।
একটি ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড—
একজন প্রফেশনাল ডিজাইনারের ফোনে সবসময় একটি সাজানো PNG লাইব্রেরি থাকে।
আলাদা আলাদা ফোল্ডারে সংরক্ষণ করুন—
এতে কাজের সময় কোনো রিসোর্স খুঁজতে সময় নষ্ট হবে না।
একটি পোস্টারে একাধিক ছবি থাকলে Layer-এর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ—
Background
↓
Texture
↓
Shape
↓
Main Photo
↓
Light Effect
↓
Text
↓
Logo
↓
Top Decoration
এই ক্রম অনুসরণ করলে ডিজাইন অনেক বেশি গোছানো ও প্রফেশনাল দেখায়।
যখন PNG এবং Background একসাথে ব্যবহার করবেন—
সব ছবিতে আলোর দিক এক হলে ডিজাইন বাস্তবসম্মত লাগে।
মনে রাখবেন, একটি সাধারণ ডিজাইনকে প্রিমিয়াম দেখানোর সবচেয়ে বড় রহস্য হলো—কম কিন্তু মানসম্মত রিসোর্স ব্যবহার করা।